তনু হত্যার প্রতিবাদে পুলিশও নেমেছে রাস্তায়


সরকারি চাকরিজীবী, জনগণের নিরাপত্তা দেয়াই তাদের কাজ। তাই সবসময় জনগণের কাতারে সামিল হতে পারেন না পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু তাদেরও তো মেয়ে আছে, বিবেক আছে, আছে মন, মায়া-মমতা আর ভালোবাসা। তাইতো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাটি মেনে নিতে পারেননি তারা। জনতার কাতারে সামিল হয়ে প্রতিবাদও জানিয়েছেন সদস্য থেকে শুরু করে পুলিশের কর্মকর্তারা।

তনুর খুনিদের বিচার দাবিতে গত তিনদিন ধরেই উত্তাল কুমিল্লার রাজপথ। প্রতিদিনই শহরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরের রাজপথে, মহাসড়ক, ভিক্টোরিয়া কলেজের সামনেই হচ্ছে প্রতিবাদ। সেখানে অংশ নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার মাঠে নেমেছিল তনুর ৩০ হাজার সহপাঠী। বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে বসে থাকতে পারেননি রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও। তনুর বন্ধুদের সঙ্গেই হাতে হাত ধরে রাজপথে নেমে আসেন সব ভেদাভেদ ভুলে। এক কাতারেই দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপি, ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রদলের নেতারা।

প্রতিবাদ হয়েছে শুক্রবারও। ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের আয়োজনে সেখানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাট্যসংঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। আর সেই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে জনতার সঙ্গে হাতে হাত ধরে প্রতিবাদ জানায় শহরের পুলিশ কর্মকর্তারাও।

এদিকে তনু হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার কুমিল্লার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরের রাজপথে নেমে আসে সর্বস্তরের মানুষ। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে তারা। এ সময় নগরীতে কিছু সময়ের জন্য যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এতে কাউকেই অস্বস্তিবোধ করতে দেখা যায়নি। বরং গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনে অংশ নিতেই দেখা গেছে অনেককেই।

সকালে এ আন্দোলন শিক্ষার্থীরা শুরু করলেও সংহতি জানান কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মো. ওমর ফারুক, সাংস্কৃতিক সংগঠক শহীদুল হক স্বপন, দক্ষিণ জেলা যুবদল সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল আজিজ সিহানু, ছাত্রলীগ নেতা রোকন উদ্দিন, শাওন প্রমুখ।

কান্দিরপাড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে এসে দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সহ-পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আবদুর রব। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করার আশ্বাস দেন।

এদিকে নিহতের পরিবারের সূত্র জানায়, সোহাগী জাহান তনু গত রোববার সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফিরছিল। পথে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় তাকে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের ভেতরে পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে সোহাগীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। কালভার্টের পাশে ঝোপের ভেতর মাথা থেতলানো সোহাগীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ পড়েছিল।

সোমবার নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের চারদিনেও কাউকে গ্রেপ্তার বা হত্যার রহস্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *