ভারতে তৈরি হলো ‘বিশ্বের সেরা’ অ্যাটাক কপ্টার


বিশ্বের সবচেয়ে সেরা অ্যাটাক হেলিকপ্টার তৈরি দাবি করেছে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান। দেশটির হেলিকপ্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল) এই আকাশযান তৈরির দাবি করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টারের বৈশিষ্ট্য হলো এটি অনেক উঁচুতে উঠে অনায়াসেই শত্রুপক্ষের ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাতে পারে। পৃথিবীর অন্য সব দেশের অ্যাটাক হেলিকপ্টারের রেকর্ড ভেঙে হ্যাল তৈরি করেছে অত্যাধুনিক এই অ্যাটাক হেলিকপ্টার। এর নাম রাখা হয়েছে এলসিএইচ বা লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর ধরে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এই সফলতা পেল হ্যাল। অত্যাধুনিক এই কপ্টারের বিশেষত্ব হলো, এটি ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এবং অনেক ওপর দিয়ে উড়তে পারে।

সাধারণ হেলিকপ্টার যেখানে উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়তে হিমশিম খায়, সেখানে এই এলসিএইচ অনায়াসেই যুদ্ধবিমানের মতো অনেক উপর থেকে শত্রুপক্ষের ওপর আক্রমণ চালাতে পারবে। স্বাভাবিকভাবে প্রায় ১৬ হাজার ফুট উঁচুতে উড়তে সক্ষম এই হেলিকপ্টার। তবে প্রয়োজনে ২১ হাজার ৩০০ ফুট উচ্চতায়ও এটি পৌঁছাতে পারবে বলে হ্যালের দাবি।

কিছুদিন আগে ৪০০ কেজি ওজনের যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে ভারতের অন্যতম উঁচু পাহাড়ি অঞ্চল সিয়াচেনের হেলিপ্যাডে সফলভাবে অবতরণ করেছে এলসিএইচ। চলতি মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে সিয়াচেনের একটি ল্যান্ডিং বেসে অবতরণ করে হ্যালের নির্মিত এই অ্যাটাক হেলিকপ্টার।

এই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো সমৃদ্ধ হলো বলে মনে করেন দেশটির প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। হ্যালের দাবি, বিপুল ওজনের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এত উঁচুতে পৃথিবীর আর কোনো হেলিকপ্টার এখনো উড়তে পারেনি। অতি উচ্চতায় পৌঁছানোর পাশাপাশি এই অ্যাটাক হেলিকপ্টারের বিধ্বংসী ক্ষমতাও রয়েছে মারাত্মক। এই এলসিএইচে রয়েছে উন্নত মানের টারেট গান, রকেট লঞ্চার।

এ ছাড়া আকাশ থেকে আকাশে মিসাইল এবং ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মিসাইলও ছুঁড়তে পারবে এই হেলিকপ্টার। তা ছাড়া শত্রুপক্ষ অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান নিয়ে এই হেলিকপ্টারকে আক্রমণ করতে গেলে তার আগেই এখান থেকে রকেট হেনে শত্রুপক্ষের বাঙ্কার উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলেও জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ফলে শত্রুপক্ষের কাছে নতুন মডেলের এই হেলিকপ্টার বেশ মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতের বহরে যেসব হেলিকপ্টার ছিল তা অতি উচ্চতার পাহাড়ের ওপর দিয়ে উড়তে না পারায় ওই যুদ্ধে ভারতকে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষেই প্রচুর অস্ত্র বহন করতে পারে কিন্তু ওজনে হালকা হেলিকপ্টার বানানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।

সেই অনুযায়ী হ্যালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০১০ সালে পথম লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার তৈরি করা হয়। এরপর থেকে নানা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বারবার পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয় এই হেলিকপ্টার।

পাঁচ বছর ধরে নানা ত্রুটি সংশোধন করে অবশেষে ত্রুটিমুক্ত করা হয় এলসিএইচকে। চলতি মাসে সিয়াচেনের মতো সুউচ্চ পাহাড়ি এলাকায় পরীক্ষামূলক ভাবে অবতরণ করানো হয় একটি অ্যাটাক হেলিকপ্টারকে।

জানা গেছে, ভারতের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর কথা মাথায় রেখে তিন শ্রেণির এলসিএইচ তৈরি করা হয়েছে। এরইমধ্যে দেশটির সেনাবাহিনী হ্যালকে ১১৪টি এবং নৌবাহিনী ৬৫টি এলসিএইচ তৈরির ওয়ার্কঅর্ডার দিয়েছে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *